মনির আহমদ আজাদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও যোগাযোগ কেন্দ্র বটতলী স্টেশন। প্রতিদিন এ স্টেশন থেকে চট্টগ্রাম মহানগরী, কক্সবাজার, ঢাকা এবং দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে দূরপাল্লার চেয়ারকোচ, বাস, মিনিবাস, লেগুনা, সিএনজি অটোরিকশাসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। ফলে দিনভর এ এলাকায় মানুষের ব্যাপক সমাগম ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বটতলী স্টেশনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে হাজারো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বহুতল বাণিজ্যিক ভবন, আবাসিক ভবন এবং প্রায় ২৮টি তফসিলি ব্যাংকের শাখা। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের নিয়মিত যাতায়াতের কারণে এলাকাটি একটি ব্যস্ত উপশহরে পরিণত হয়েছে।
তবে জনবহুল এ উপশহরের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে দীর্ঘস্থায়ী যানজট। নির্দিষ্ট বাস টার্মিনাল না থাকায় সড়কের ওপরই যাত্রী ওঠানামা ও যানবাহনের অবস্থানের কারণে প্রায় সারাদিন যানজট লেগে থাকে। এতে সাধারণ পথচারী, শিক্ষার্থী এবং নারী-শিশুদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সড়ক পারাপার করতে হয়। প্রায়ই দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বহু বছর ধরে বিভিন্ন নির্বাচনের আগে ও পরে জনপ্রতিনিধিরা বটতলীতে একটি স্থায়ী বাস টার্মিনাল নির্মাণের আশ্বাস দিয়ে আসছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে জনদুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, উপজেলার আমিরাবাদ পুরাতন বিওসি এলাকায় সরকারি পতিত জমি প্রায় ১১.৫০ একর বা ২৭ কানি এলাকার রাজনৈতিক প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট দখল করে দোকান নির্মাণ করে ভাড়াগ্রহণ ও মৎস্য চাষ করে মাছ বিক্রি করে কোটি কোটি হাতিয়ে নিচ্ছে। যা একটি আধুনিক বাস টার্মিনাল নির্মাণের জন্য উপযুক্ত স্থান হতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে সিরাজ মিয়া নামে এক ব্যক্তি লিজের মাধ্যমে ওই জায়গায় মৎস্য চাষ করে ভোগদখলে ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি এককভাবে জায়গাটি ব্যবহার করতেন। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর উত্তরাধিকারীরাও জায়গাটি দখলে রাখেন। তবে ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বর্তমানে ওই সরকারি জায়গার একটি অংশ স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সেখানে দোকানঘর ভাড়া দেওয়া, জলাশয়ে মাছ চাষ এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব কার্যক্রম থেকে প্রতি মাসে বিপুল অঙ্কের অর্থ আয় হচ্ছে বলেও স্থানীয়রা দাবি করেছেন। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেছেন, বাস টার্মিনাল নির্মাণের জন্য উপযুক্ত সরকারি জায়গা থাকা সত্ত্বেও কেন বারবার ঘোষণার পরও প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হচ্ছে না। তাদের মতে, সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করে সেখানে আধুনিক বাস টার্মিনাল নির্মাণ করা গেলে বটতলী স্টেশনের দীর্ঘদিনের যানজট ও জনদুর্ভোগ অনেকাংশে কমে আসবে।
এ বিষয়ে সর্বস্তরের জনগণ সড়ক ও জনপথ বিভাগ, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, সরকারি সম্পত্তি দখলমুক্ত করে জনগণের স্বার্থে পরিকল্পিত বাস টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক, যাতে লোহাগাড়া বটতলী স্টেশনের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির স্থায়ী সমাধান সম্ভব হয়।