প্রিন্স মন্ডল অলিফ, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
বাগেরহাটের দেলভাষানী খাল দখলমুক্ত করতে প্রশাসনের ঘোষিত অভিযান শেষ মুহূর্তে স্থগিত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও দখলদারদের আবেদনের পর অভিযান আর পরিচালিত হয়নি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি এই খালের একটি অংশ দখল করে মাছ চাষ করা হচ্ছে। এতে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জনসাধারণের চলাচলেও নানা ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে।
উচ্ছেদ অভিযানের নির্ধারিত দিন শনিবার সকালে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন এবং সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদও সেখানে যান।
এ সময় অভিযুক্ত দখলদাররা তাদের মাছের ঘেরের বিষয়টি তুলে ধরে কিছু সময়ের আবেদন করেন। প্রশাসন তা বিবেচনায় নিয়ে দুই সপ্তাহ সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায় এবং সেদিনের অভিযান স্থগিত রাখে।
এ সিদ্ধান্তে স্থানীয়রা হতাশ হয়ে বলেন, প্রশাসন যদি ঘটনাস্থলে গিয়েও অবৈধ দখল অপসারণ না করে ফিরে আসে, তাহলে সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারের কার্যক্রম নিয়ে মানুষের আস্থা দুর্বল হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. রুবেলসহ একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, বছরের পর বছর ধরে সরকারি খাল ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এবারও একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে বলে তারা মনে করছেন।
অভিযোগের বিষয়ে সেলিম কাজী নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন জানান, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং শান্তিপূর্ণভাবে স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে দুই সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে। এরপর প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ বলেন, সরকারি খাল পুনরুদ্ধারের কাজ বন্ধ হয়নি। মানবিক বিবেচনায় মাছ তুলে নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার জন্য সাময়িক সময় দেওয়া হয়েছে।
তবে স্থানীয় সচেতন মহলের অভিমত, সরকারি সম্পত্তি দখলের অভিযোগে অভিযুক্তদের প্রতি অতিরিক্ত ছাড় দিলে ভবিষ্যতে খাল, নদী ও জলাশয় পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ দুর্বল হয়ে পড়বে। তাই নির্ধারিত সময় শেষে দ্রুত ও নিরপেক্ষ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন তারা।