আতিকুর রহমান আশিক
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
অভিযোগ উঠেছে আব্দুল গনি (৬০) নামের এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে।
সোমবার (৬ জুলাই) রাতে ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবার বাদী হয়ে ঘিওর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। ঘিওর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অভিযুক্ত আব্দুল গনি ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী ইউনিয়নের উত্তর তরা এলাকার মৃত গেতা মিয়ার ছেলে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ জুন মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওর উপজেলার উত্তর তরা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিশুর মা জানান, ওই দিন তিনি উত্তর তরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া তার বড় মেয়েকে নিয়ে স্কুলে যান। সঙ্গে ছিল তার ৪ বছরের ছোট মেয়েও। তিনি ছোট মেয়েকে বিদ্যালয়ের বারান্দায় রেখে বড় মেয়ের সঙ্গে কথা বলতে শ্রেণিকক্ষে যান। কক্ষ থেকে বের হয়ে তিনি ছোট মেয়েকে আর যথাস্থানে দেখতে পাননি। চারদিকে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বড় মেয়ে দেখতে পায়, অভিযুক্ত আব্দুল গনি মিয়ার কোলে বসে আছে তার ছোট বোন এবং তার হাতে একটি পিস ফর।
তিনি আরও জানান, স্কুল শেষে বাড়ি ফেরার পর শিশুটি তীব্র অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং তার প্রস্রাব-পায়খানা বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক দেখে পরদিন শিশুটিকে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে পরিবারকে জানান, শিশুটি যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর সমাজের একটি স্বার্থান্বেষী চক্র বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ভুক্তভোগী পরিবারকে চাপ সৃষ্টি করে। তবে ঘটনার নির্মমতা ও স্পর্শকাতরতা অনুধাবন করে এলাকার সচেতন নাগরিকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ করেন। অপরাধীর পক্ষ নেওয়া চক্রটির অপচেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। বর্তমানে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সাজ্জাদ হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে শুনেছেন তিনি। ভুক্তভোগীর মা-বাবাকে তিনি চেনেন না। অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে বলেন তিনি।
এ বিষয়ে ঘিওর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।