প্রিন্স মন্ডল অলিফ, বাগেরহাট ।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করার অভিযানে বড় সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। কুখ্যাত ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর শেখসহ ২৭ জন সক্রিয় বনদস্যু অস্ত্র ও গোলাবারুদ জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন।
সোমবার বিকেলে মোংলা উপজেলার সুন্দরবনের চরপুটিয়া খাল এলাকায় এ আত্মসমর্পণের আয়োজন করা হয়। মঙ্গলবার কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সদর দপ্তরে সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম।
তিনি জানান, সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে সুন্দরবনে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ পরিচালিত হচ্ছে। এসব অভিযানের মাধ্যমে বনদস্যুদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিত কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ডের তথ্যমতে, চলমান অভিযানে ইতোমধ্যে বিপুল অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার হয়েছে। গ্রেপ্তার হয়েছেন ৪৫ জন বনদস্যু। এছাড়া অপহৃত ৪২ জন জেলে ও বনজীবীকে নিরাপদে উদ্ধার করে চিকিৎসা শেষে স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আত্মসমর্পণের সময় ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা তিনটি বিদেশি বন্দুক, একটি এইট শুটার, একটি ফোর শুটার, পাঁচটি একনলা বন্দুক, ১৫টি দেশীয় পাইপগান, দুটি চায়না পাইপগান, ৩৪০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং ৫৫ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ জমা দেন।
কোস্ট গার্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, আত্মসমর্পণকারী সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে জেলে ও বনজীবীদের অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, ডাকাতি এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পাশাপাশি সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী পুনর্বাসনের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
সংস্থাটি সুন্দরবনে সক্রিয় অন্য বনদস্যুদেরও অস্ত্র সমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে সতর্ক করে বলা হয়েছে, যারা অপরাধে জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে। সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করতে কোস্ট গার্ডের অভিযান, গোয়েন্দা তৎপরতা ও সমন্বিত নিরাপত্তা কার্যক্রম ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।