নিউজ ডেস্ক
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর), ২০২৬
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ। আর্থিক জালিয়াতি ও একাডেমিক যোগ্যতা নিয়ে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের তদন্ত চলাকালে বুধবার ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুসের কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সায়মা ওয়াজেদের এই পদত্যাগপত্র অবিলম্বে কার্যকর হবে। তবে জাতিসংঘের এই সংস্থাটি তার পদত্যাগ আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত করেনি।
পদত্যাগপত্রে সায়মা ওয়াজেদ ডব্লিউএইচও মহাপরিচালকের নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, ‘আমাকে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখা এবং এক বছর বেতন-ভাতা বন্ধ রাখায় আমার আর্থিক অবস্থা অসহনীয় হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আমি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
ডব্লিউএইচও সায়মা ওয়াজেদের বিরুদ্ধে চীনে সফরসংক্রান্ত আর্থিক জালিয়াতি এবং একাডেমিক যোগ্যতা নিয়ে ভ্রান্ত তথ্য দেওয়ার অভিযোগ আনে। এছাড়া বাংলাদেশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে পূর্বাচলে প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা চলমান রয়েছে। এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সায়মা ওয়াজেদ দাবি করেন, তিনি সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন।
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাঁচ বছরের জন্য আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন সায়মা ওয়াজেদ। তবে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর গত বছরের জুলাই থেকে তিনি অবৈতনিক ছুটিতে ছিলেন। সংস্থাটি তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অপসারণের পরিকল্পনা করছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। আগামী ২৪ জানুয়ারি ডব্লিউএইচওর এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১১টি দেশের প্রায় ২০০ কোটি মানুষের স্বাস্থ্যসেবা ও ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বাজেট ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকেন আঞ্চলিক পরিচালক। সায়মা ওয়াজেদের মনোনয়ন ও নিয়োগের সময় থেকেই তার যোগ্যতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা বিতর্ক ছিল। বর্তমানে তিনি ভারতের দিল্লিতে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।