নিউজ ডেস্ক
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬), রাত ৮টা ২৭ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
মোবাইল ফোন ও কম্পিউটারের সংযোগ স্থাপনে বহুল ব্যবহৃত প্রযুক্তি ‘ব্লুটুথ’-এর নামের পেছনে রয়েছে ডেনমার্কের এক ভাইকিং রাজার হাজার বছরের পুরোনো ইতিহাস। দশম শতকের ডেনমার্কের শাসক রাজা হ্যারল্ড গর্মসনের ডাকনাম ছিল ব্লুটুথ, যা থেকে আধুনিক এই প্রযুক্তির নামকরণ করা হয়েছে।
রাজা হ্যারল্ড গর্মসন দশম শতকে ডেনমার্ক শাসন করতেন। প্রাচীন নর্স ভাষায় তার ডাকনাম ছিল ‘ব্লাতন’ বা ব্লুটুথ। ইতিহাসবিদদের ধারণা, তার একটি দাঁত নীলচে হয়ে যাওয়ায় বা পচে যাওয়ায় তিনি এমন ডাকনাম পেয়েছিলেন। যদিও তার মৃত্যুর প্রায় ১৫০ বছর পর প্রথম লিখিত নথিতে এই নামের উল্লেখ পাওয়া যায়।
রাজা হ্যারল্ডের অন্যতম বড় কৃতিত্ব ছিল ডেনমার্কে খ্রিষ্টধর্মের প্রচলন এবং ডেনমার্ক ও নরওয়ের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। জেলিং শহরে অবস্থিত দুটি প্রাচীন শিলালিপিতে তার এই কৃতিত্বের কথা খোদাই করা রয়েছে। ডেনমার্কের জেলিং শহরের বাসিন্দারা এই শিলালিপিগুলোকে দেশটির ‘জন্মসনদ’ হিসেবে অভিহিত করেন।
১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে তোশিবা, আইবিএম, নকিয়া, ইন্টেল ও এরিকসনসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীরা বিভিন্ন যন্ত্রের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের একটি প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছিলেন। প্রযুক্তিটির জন্য একটি সাংকেতিক নামের প্রয়োজন ছিল।
ইন্টেলের প্রকৌশলী জিম কার্ডাচ ভাইকিংদের ইতিহাস নিয়ে একটি বই পড়ার সময় রাজা হ্যারল্ড ব্লুটুথের কথা জানতে পারেন। তিনি বলেন, রাজা হ্যারল্ড যেমন ডেনমার্ক ও নরওয়েকে একত্র করেছিলেন, তেমনি এই প্রযুক্তিও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তৈরি যন্ত্রকে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত করবে। এই চিন্তা থেকেই প্রযুক্তিটির নাম রাখা হয় ব্লুটুথ।
প্রযুক্তির নামকরণ ও লোগোর ইতিহাস
শুরুতে প্রচার ও জনসংযোগ দলের সদস্যরা ‘ব্লুটুথ’ নামটি পছন্দ করেননি। তাদের আশঙ্কা ছিল, নামটি শুনলে দাঁতের অপরিচ্ছন্নতার কথা মনে হতে পারে। তবে নামটি আলাদা ও সহজে মনে রাখার মতো হওয়ায় তা দ্রুত জনপ্রিয়তা পায়।
ব্লুটুথের লোগোটিও প্রযুক্তিটির পরিচিতি বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। প্রাচীন নর্স ভাষার দুটি রুনিক প্রতীক ব্যবহার করে রাজা হ্যারল্ড ব্লুটুথের নামের আদ্যক্ষর ‘এইচ’ ও ‘বি’ মিলিয়ে এই লোগো তৈরি করা হয়েছে।
কিংস জেলিং জাদুঘরের কিউরেটর অ্যাডাম বাক বলেন, “হ্যারল্ড নিজের কৃতিত্ব জাহির করতে পছন্দ করতেন। প্রতিদিন বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ তার নাম উচ্চারণ করেন, এটা জানতে পারলে তিনি নিশ্চয়ই খুশি হতেন।”
২০২৩ সালে ব্লুটুথ প্রযুক্তির ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে জিম কার্ডাচ ও সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা জেলিং জাদুঘর পরিদর্শন করেন। সেখানে তারা রাজা হ্যারল্ডের অনুমতি ছাড়া তার নাম ব্যবহারের জন্য জাদুঘর কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতীকী ক্ষমা প্রার্থনা করেন। জাদুঘর কর্তৃপক্ষ সেই ক্ষমা গ্রহণ করে আগামী এক হাজার বছর প্রযুক্তিটির নাম হিসেবে ‘ব্লুটুথ’ ব্যবহারের অনুমতি দেয়। সূত্র-বিবিসি বাংলা