সাকিব আহসান
প্রতিনিধি,পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার ঢাকাইয়াপট্টি মার্কেটে কসমেটিকস ও কাপড়ের দোকানে পণ্যের দাম নির্ধারণ ও বিক্রয় প্রক্রিয়ায় বড় ধরণের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অনেক ব্যবসায়ী দৃশ্যমান স্থানে মূল্য তালিকা রাখছেন না এবং কেনাকাটার পর ক্রেতাদের বৈধ ক্যাশ মেমো দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন, যা সরাসরি প্রচলিত আইনের লঙ্ঘন।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী প্রতিটি দোকানে পণ্যের মূল্য তালিকা ঝুলিয়ে রাখা এবং বিক্রির সময় রশিদ দেওয়া বাধ্যতামূলক হলেও পীরগঞ্জের এই বাজারে চিত্রটি ভিন্ন। অনেক ক্ষেত্রে দোকানিরা ‘মেমো শেষ’ বা ‘পাইকারি দোকান’—এমন নানা অজুহাতে ক্রেতা ও তদারকি সংস্থাকে তথ্য দিতে অসহযোগিতা করছেন।
স্থানীয় ক্রেতাদের অভিযোগ, কসমেটিকস ও কাপড়ের ক্ষেত্রে ক্রয়মূল্যের তুলনায় অনেক সময় কয়েক গুণ বেশি দাম আদায় করা হচ্ছে। আইনের ৪০ ধারা অনুযায়ী, অযৌক্তিকভাবে অতিরিক্ত মূল্য আদায় করা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। আমদানিকৃত কসমেটিকস বা দেশীয় পোশাকের ক্ষেত্রে শুল্ক, ভ্যাট ও পরিবহন খরচ মিলিয়ে একটি ‘যুক্তিসংগত’ মুনাফার সুযোগ থাকলেও, ঢাকাইয়াপট্টি মার্কেটের অনেক দোকানেই তা মানা হচ্ছে না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সাংবাদিক বা তদারকি কর্মকর্তারা ক্রয়মূল্যের রশিদ দেখতে চাইলে অনেক ব্যবসায়ী তা প্রদর্শন করতে অনীহা প্রকাশ করেন। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি সরাসরি তদন্ত কাজে বাধা দেওয়ার শামিল, যার জন্য ধারা ৪৫ অনুযায়ী এক বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।
এছাড়া, মূল্য তালিকা না রাখা বা ক্যাশ মেমো না দেওয়ার অপরাধে ৫০ হাজার টাকা এবং প্রতারণামূলক আচরণের জন্য সর্বোচ্চ ২ লক্ষ টাকা জরিমানাসহ জেল খাটার ঝুঁকি থাকলেও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সচেতনতা বা ভয়ের অভাব স্পষ্ট।
বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান ছাড়া এই দীর্ঘদিনের অনিয়ম বন্ধ করা কঠিন। কেবল উৎসবের সময় নয়, সারা বছরই খুচরা বাজারে এই আইনগত বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অন্যথায় সাধারণ ভোক্তারা প্রতিনিয়ত আর্থিক প্রতারণার শিকার হতেই থাকবেন।