নিউজ ডেস্ক
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর), ২০২৬
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিবেশবান্ধব পণ্যের চাহিদা বাড়ায় বাংলাদেশের পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি আয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই খাত থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে ৮৮৩.৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। বর্তমানে বিশ্বের ১৩৮টি দেশে বাংলাদেশের বহুমুখী পাটজাত পণ্য রপ্তানি হচ্ছে।
বস্তা ও দড়ির গণ্ডি পেরিয়ে পাট এখন বিশ্বমঞ্চে বিলাসবহুল ও আধুনিক লাইফস্টাইলের প্রতীক হয়ে উঠেছে। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় বর্তমানে ২৮২টি পণ্যকে বহুমুখী পাটজাত পণ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে আধুনিক ডিজাইনের হ্যান্ডব্যাগ, ল্যাপটপ ব্যাগ, কর্পোরেট ফাইল, জুতো, জ্যাকেট এবং নান্দনিক হোম ডেকর সামগ্রী।
পাট শুধু আঁশেই সীমাবদ্ধ নেই, এর পরিত্যক্ত অংশ বা পাটকাঠি থেকেও তৈরি হচ্ছে অ্যাক্টিভেটেড চারকোল বা কার্বন পাউডার। ব্যাটারি, কসমেটিকস ও ফেসওয়াশ তৈরির কাঁচামাল হিসেবে এই চারকোল চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে।
পাট খাতের উন্নয়ন ও মহাপরিকল্পনা
সরকার ‘বাংলাদেশ পাট খাত উন্নয়ন কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা (২০২৬-২০৩১)’ গ্রহণ করেছে। এই পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো ২০৩১ সালের মধ্যে পাট খাতের রপ্তানি আয় ১.৬৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা। এছাড়া বন্ধ হয়ে যাওয়া রাষ্ট্রায়ত্ত ২৫টি পাটকলের মধ্যে ১৪টি বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় লিজ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৯টিতে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে মান নিয়ন্ত্রণে ঢাকা ও খুলনার প্রধান টেস্টিং ল্যাবরেটরিগুলোকে আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিশ্ববাজারে দেশীয় পণ্যের ব্র্যান্ডিং করতে আন্তর্জাতিক পাট প্রদর্শনী আয়োজন এবং দেশের সব বিমানবন্দরে পাটপণ্য ডিসপ্লে সেন্টার চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
অভ্যন্তরীণ বাজারে পাটের ব্যবহার বাড়াতে ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন-২০১০’ কঠোরভাবে কার্যকর করা হচ্ছে। এর আওতায় ধান, চাল, গম, সার ও চিনিসহ ১৯টি পণ্যের মোড়কীকরণে পাটের বস্তা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
কারখানায় কর্মরত সুফিয়া বেগম বলেন, “একটা সময় ভাবতাম পাটের কাজ শুধু ছালার বস্তা সেলাই করা। এখন আমাদের হাতের তৈরি পাটের ব্যাগ ইউরোপের বড় বড় শপিং মলে যাচ্ছে। সোনালী আঁশ যে আমাদের কপাল এভাবে ফেরাবে, তা আগে ভাবিনি।”