প্রিন্স মন্ডল অলিফ, স্টাফ রিপোর্টার।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
জ্বালানি তেলের স্বল্পতার কারণে মোংলা বন্দরে পণ্য খালাস কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তেল না পাওয়ায় লাইটার জাহাজগুলো বড় জাহাজ থেকে পণ্য পরিবহন করতে পারছে না। এতে বহির্নোঙরে থাকা মাদার ভেসেল থেকে আমদানিকৃত পণ্য খালাসে বিলম্ব হচ্ছে এবং ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাধারণত বড় জাহাজ থেকে পণ্য ছোট লাইটার জাহাজে স্থানান্তর করে নদীপথে দেশের বিভিন্ন ঘাটে নেওয়া হয়। কিন্তু তেল সংকটে পশুর নদী ও আশপাশের এলাকায় বহু লাইটার জাহাজ অলস অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
এমভি আর রশিদ-১ জাহাজের মাস্টার মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম বলেন, পর্যাপ্ত জ্বালানি না থাকায় দীর্ঘ সময় ধরে জাহাজ নিয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ফলে বন্দরে থাকা বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে পণ্য খালাস করা যাচ্ছে না।
এমভি মিমতাজের মালিক মো. খোকন জানান, তেল সরবরাহের জন্য এসকে এন্টারপ্রাইজ এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা জানিয়েছেন ডিপো থেকে পর্যাপ্ত তেল পাওয়া যাচ্ছে না। একই সমস্যায় অন্যান্য জাহাজ মালিকরাও পড়েছেন।
সেভেন সার্কেল সিমেন্ট কারখানার কর্মকর্তা মো. মামুন বলেন, লাইটার জাহাজের সংকটে কাঁচামাল সময়মতো পৌঁছাচ্ছে না। ফলে প্রতিদিন অতিরিক্ত খরচ বাড়ছে এবং উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
শেখ সিমেন্টের এজিএম আজাদুল হক বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে কাঁচামাল পরিবহন বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কারখানার উৎপাদন প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ডিলার এইচ এম দুলাল বলেন, বর্তমানে চাহিদার তুলনায় কম তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে জাহাজ মালিকদের প্রয়োজনীয় জ্বালানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ম্যানেজার (অপারেশনস) প্রকৌশলী প্রবীর হীরা জানান, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে তেলের সরবরাহ সীমিত থাকায় সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বিতরণ করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত তেল সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে আমদানি-রফতানি কার্যক্রমের পাশাপাশি দেশের শিল্প উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।