শাকিল হোসেন, কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
শনিবার (১৫ আগস্ট), রাত ৯টা
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে গ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে ৩৫টিরও বেশি শিল্পকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। গ্যাসের চাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় হরতকীতলা এলাকার রাইয়্যান নিট কম্পোজিট লিমিটেড কারখানাটি পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে কারখানাটির ২ হাজার ২০০ শ্রমিককে ছুটি দিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।
গত বুধবার রাত থেকে গ্যাসের চাপ কমতে শুরু করলে বৃহস্পতিবার সকালে রাইয়্যান নিট কম্পোজিট লিমিটেড কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়। কারখানাটির মহাব্যবস্থাপক (জিএম) জহিরুল ইসলাম বলেন, “বুধবার রাত ৯টার পর থেকে গ্যাসের চাপ এতটাই কমে যায় যে একটি মেশিনও চালানো সম্ভব হয়নি। এতে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হচ্ছে। পরিস্থিতির কারণে বৃহস্পতিবার সকালে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হয়।”
৩৫টির বেশি কারখানার কার্যক্রম স্থবির
তিতাস গ্যাসের কালিয়াকৈর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, কালিয়াকৈর ও আশপাশের এলাকায় প্রতিদিন প্রায় ২৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১০ থেকে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট। গ্যাসের এই স্বল্পচাপের কারণে চন্দ্রা, মৌচাক ও কালিয়াকৈরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে অনেক কারখানায় উৎপাদন আংশিকভাবে চলছে, আবার কোথাও বয়লার ও উৎপাদনযন্ত্র চালানো সম্ভব না হওয়ায় কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
গ্যাস সংকটে উৎপাদন বন্ধ থাকায় শ্রমিকদের মধ্যে চাকরি হারানোর আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। শিল্পমালিকদের ভাষ্য, উৎপাদন কমে গেলেও শ্রমিকদের বেতন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল এবং ব্যাংকঋণের কিস্তিসহ নিয়মিত ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। সংকট দীর্ঘায়িত হলে অনেক প্রতিষ্ঠান বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার পাশাপাশি শ্রমিক ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা রয়েছে।
গ্যাস কোম্পানির কর্মকর্তারা জানান, এলএনজি সরবরাহ ও জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন। তবে শিল্পমালিক ও শ্রমিকরা দ্রুত গ্যাসের সরবরাহ ও চাপ স্বাভাবিক করে কারখানাগুলো সচল রাখতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।