মোঃ নাজমুল ইসলাম সবুজ শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন পূর্ব সুন্দরবনের নারিকেলবাড়ীয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি ট্রলারসহ ৪ বস্তা হরিণ শিকারের ‘মালা ফাঁদ’ জব্দ করেছেন বনরক্ষীরা। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভোরে শরণখোলা রেঞ্জের শেলারচর টহল ফাঁড়ির বনরক্ষীরা এ অভিযান পরিচালনা করেন। তবে বনরক্ষীদের উপস্থিতি টের পেয়ে ট্রলার ফেলে সুন্দরবনের গহীনে পালিয়ে গেছে শিকারী চক্রের সদস্যরা।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, শেলারচর টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্টার মো. মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে বনরক্ষীরা শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নিয়মিত টহলে বের হন। টহল দল বঙ্গোপসাগরের নারিকেলবাড়ীয়া এলাকায় একটি সন্দেহভাজন ট্রলার দেখতে পেয়ে সেটিকে থামার নির্দেশ দেয়। তবে বনরক্ষীদের দেখে ট্রলারে থাকা ৬ থেকে ৭ জন শিকারী তড়িঘড়ি করে ট্রলারটি বনের পাড়ে ভিড়িয়ে লাফ দিয়ে সুন্দরবনের ভেতরে পালিয়ে যায়।
এদিকে শিকারীরা পালিয়ে যাওয়ার পর সাগরের ঢেউয়ের তোড়ে ট্রলারটি ডুবে যেতে শুরু করে। বনরক্ষীরা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে অর্ধ-ডুবন্ত ট্রলারটিকে টেনে উদ্ধার করে শেলারচর ফাঁড়িতে নিয়ে যান। পরে ট্রলারে তল্লাশি চালিয়ে ৪টি বস্তাভর্তি বিপুল পরিমাণ হরিণ শিকারের মালা ফাঁদ জব্দ করা হয়। তবে ট্রলারটি ডুবন্ত অবস্থায় থাকায় ককশিটভর্তি বরফসহ শিকারীদের অন্যান্য সরঞ্জাম সাগরে ভেসে যায় বলে জানিয়েছেন বনরক্ষীরা।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম জানান, অজ্ঞাত পরিচয়ের একদল শিকারী বরফ ও ফাঁদ নিয়ে সাগরপথে নারিকেলবাড়ীয়া দিয়ে সুন্দরবনে ঢোকার চেষ্টা করছিল। বনরক্ষীদের সতর্কতার কারণে তাদের হরিণ শিকারের অপচেষ্টা নস্যাৎ করে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণসহ পালিয়ে যাওয়া শিকারীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।