নিজস্ব প্রতিবেদক
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬), সন্ধ্যা ৭টা ২৬ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেন যুদ্ধের উত্তাপের মধ্যেই ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শুক্রবার নয়াদিল্লির পালাম বিমানঘাঁটিতে পৌঁছালে তাকে অভ্যর্থনা জানান ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং।
ভারতের কূটনৈতিক সূত্রের খবর অনুযায়ী, দুই দিনের এই সম্মেলনের ফাঁকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। এ ছাড়া চীনের প্রেসিডেন্ট সি জিনপিংয়ের সঙ্গেও নরেন্দ্র মোদির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
২০১৯ সালের পর এটিই চীনের প্রেসিডেন্ট সি জিনপিংয়ের প্রথম ভারত সফর। ২০২০ সালে হিমালয় সীমান্তে দুই দেশের সৈন্যদের সংঘাতের পর ভারত ও চীনের সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার ক্ষেত্রে এটিকে বড় ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
ব্রিকস সম্মেলনে মধ্যপ্রাচ্য সংকট
ভারতের ‘অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন’-এর গবেষণা পরিচালক হর্ষ ভি. পান্ত বলেন, “এবারের ব্রিকস সম্মেলনে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধই প্রধান বিভাজনের রেখা হয়ে দাঁড়াবে। গত বছর জোট সম্প্রসারণকে যে সাফল্য হিসেবে দেখা হয়েছিল, আজ সেটিই ব্রিকসের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।”
গবেষণা সংস্থা ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের অর্থনীতিবিদ শিলান শাহ জানান, ইরান সংঘাত নতুন ব্রিকস জোটের অভ্যন্তরীণ ঐক্যের এক কঠিন পরীক্ষা। গত মে মাসে নয়াদিল্লিতে ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে তারা কোনো যৌথ ঘোষণায় পৌঁছাতে পারেননি।
ভারত একদিকে ইরান ও ইসরাইল—উভয় দেশের সঙ্গেই ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক রাখছে, অন্যদিকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে। তবে চলমান মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট সামলাতে দিল্লি রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীল। ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যেও রাশিয়া ভারতের অন্যতম কৌশলগত বন্ধু এবং বড় জ্বালানি সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করছে।