টেলিগ্রাফ রিপোর্ট | চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর। গত বুধবার থেকে শুরু হওয়া এই লাগাতার ধর্মঘটের ফলে বন্দরের তিনটি প্রধান টার্মিনালে (জিসিবি, সিসিটি ও এনসিটি) সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম এবং পণ্য খালাস বন্ধ রয়েছে। এর ফলে বহির্নোঙর ও জেটিতে জাহাজের জট তৈরি হয়েছে এবং মুখ থুবড়ে পড়েছে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
আন্দোলনের কারণে বহির্নোঙর থেকে নতুন কোনো জাহাজ জেটিতে ভিড়তে পারছে না, আবার জেটিতে থাকা ১০টি জাহাজ পণ্য খালাস করতে না পেরে আটকা পড়ে আছে। বন্দরে পণ্য পরিবহনকারী যানবাহন প্রবেশ বন্ধ থাকায় ইয়ার্ড থেকেও কনটেইনার খালাস হচ্ছে না। বেসরকারি ২১টি ডিপোতে (অফডক) ইতিমধ্যে প্রায় ১০ হাজার ৮১৭ টিইইউস রপ্তানি পণ্যের কনটেইনার আটকা পড়েছে। এর ফলে বিদেশি ক্রেতারা ক্রয়াদেশ বাতিলের আশঙ্কা করছেন বলে জানিয়েছেন বিজিএমইএ নেতারা।
আরব-আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’-কে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ এবং আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধের দাবিতে এই কর্মবিরতি পালন করা হচ্ছে। এছাড়া ১৬ জন কর্মচারীকে মোংলা ও পায়রা বন্দরে বদলি করায় শ্রমিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) নৌ পরিবহন উপদেষ্টার পদত্যাগ ও বন্দর চেয়ারম্যানের অপসারণ দাবি করেছে।
বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির জানান, ইজারা প্রক্রিয়া বন্ধ ও বদলি আদেশ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। অন্যদিকে বিজিএমইএ পরিচালক রাকিবুল আলম সতর্ক করে বলেন, সঠিক সময়ে পণ্য পাঠাতে না পারলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে এবং বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হবে। এর আগে গত শনিবার থেকে দৈনিক ৮ ঘণ্টা করে কর্মবিরতি শুরু হলেও গত মঙ্গলবার থেকে তা অনির্দিষ্টকালের কর্মসূচিতে রূপ নেয়।