মনির আহমদ আজাদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন প্রচার করে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলছে একটি অসাধু চক্র। “লোডশেডিং? ঘোর অন্ধকার? এবার NO TENSION!”— এমন চটকদার স্লোগান ব্যবহার করে তথাকথিত AC/DC ডাবল ব্যাটারি চার্জিং বাল্ব বিক্রির নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর উঠেছে “Sohz Kenakata” নামের একটি অনলাইনভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
ফেসবুকে স্পন্সর বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দাবি করছে— “বিদ্যুৎ থাকুক বা না থাকুক, আলো থাকবে সবসময়”, “দীর্ঘক্ষণ আলোর নিশ্চয়তা”, “বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয়” এবং “২ বছরের গ্যারান্টি”। এসব আকর্ষণীয় প্রচারণা দেখে সাধারণ মানুষ পণ্য অর্ডার করতে আগ্রহী হচ্ছেন। তবে বাস্তবে গ্রাহকের হাতে পৌঁছানো পণ্যের সঙ্গে বিজ্ঞাপনে দেখানো পণ্যের বিস্তর অমিল পাওয়া যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
লোহাগাড়ার এক ভুক্তভোগী ক্রেতা জানান, তিনি ফেসবুক বিজ্ঞাপন দেখে দুটি AC/DC বাল্ব অর্ডার করেন। বৃহস্পতিবার হোম ডেলিভারির মাধ্যমে “পাঠাও” সার্ভিসের ডেলিভারিম্যানের কাছ থেকে চালানসহ পণ্যটি গ্রহণ করেন। ডেলিভারি চার্জসহ মোট প্রায় ৭০০ টাকা পরিশোধ করতে হয় তাকে। কিন্তু ৬ ঘণ্টা চার্জ দেওয়ার পরও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় বাল্বগুলো সচল হয়নি। পরে অর্ডার নিশ্চিতকারী ব্যক্তির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বাজারে প্রায় ১৫০ টাকা মূল্যের সাধারণ দুটি সিকো ২০ ওয়াটের বাল্বকে বিশেষ প্রযুক্তির AC/DC বাল্ব হিসেবে প্রচার করে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে নিম্নমানের সাধারণ রিচার্জেবল বাল্ব পাঠানো হচ্ছে, যা অল্প কিছুদিন ব্যবহারের পরই অকেজো হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া বিজ্ঞাপনে গ্যারান্টির কথা বলা হলেও পরে বিক্রেতাদের আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইনভিত্তিক এ ধরনের প্রতারণা বর্তমানে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ফেসবুক পেজ, স্পন্সর বিজ্ঞাপন এবং চটকদার অফারের মাধ্যমে প্রতারকচক্র সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করছে। “সীমিত সময়ের অফার”, “বিশেষ ছাড়” কিংবা “স্টক শেষ হওয়ার আগে অর্ডার করুন”— এমন মনস্তাত্ত্বিক কৌশল ব্যবহার করে ক্রেতাদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করা হচ্ছে।
ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, পণ্যের প্রকৃত মূল্য গোপন করে বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন প্রচার এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা স্পষ্ট প্রতারণার শামিল। এ ধরনের কর্মকাণ্ড ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ হতে পারে।
সচেতন মহল মনে করছে, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ ছাড়া এ ধরনের অনলাইন প্রতারণা বন্ধ করা কঠিন। একই সঙ্গে অনলাইনে কোনো পণ্য কেনার আগে প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে যাচাই-বাছাই, রিভিউ দেখা এবং অতিরঞ্জিত বিজ্ঞাপনে প্রলুব্ধ না হওয়ার জন্য সাধারণ ক্রেতাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।