মনির আহমদ আজাদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীনতম বাণিজ্য কেন্দ্র পদুয়া বাজার কুরবানির পশুর মৌসুমে অনিয়ম ও অবৈধ অর্থ আদায়ের অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সপ্তাহের রবি ও বুধবার নিয়মিত বসা এই হাটে কুরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিপুল সংখ্যক ক্রেতা-বিক্রেতা পশু কেনাবেচার জন্য সমবেত হন। কিন্তু এ সময়ই বাজারে কিছু অসাধু ব্যক্তির দৌরাত্ম্যে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পশু বিক্রেতাদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ইজারাদার রশিদের মাধ্যমে হাট ফি আদায় করেন। তবে পাশাপাশি একটি অসাধু চক্র বাজারের বিভিন্ন স্থানে গাছের খুঁটি গেড়ে অবস্থান নিয়ে পশু বাঁধার জন্য জোরপূর্বক টাকা আদায় করছে। টাকা না দিলে পশু বাঁধতে দেওয়া হচ্ছে না—এমন গুরুতর অভিযোগও উঠেছে।
বিক্রেতারা জানান, তারা বৈধভাবে হাট ফি পরিশোধ করলেও অতিরিক্ত এই অবৈধ চাপের কারণে তাদের ব্যবসায় বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে। দূরদূরান্ত থেকে কষ্ট করে গরু-ছাগল নিয়ে আসা অনেক বিক্রেতা বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন, ফলে তাদের লাভ কমে যাচ্ছে এবং ভোগান্তি বাড়ছে।
অন্যদিকে ক্রেতারাও এ পরিস্থিতিতে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, বাজারে এ ধরনের অনিয়ম চলতে থাকলে পদুয়া বাজার তার স্বাভাবিক আকর্ষণ হারাবে। অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে ভবিষ্যতে এই বাজার ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধভাবে আদায় করা এসব টাকা কোনো ইজারাদার বা সরকারি কোষাগারে জমা হচ্ছে না, বরং কিছু ব্যক্তিগত চক্রের হাতে যাচ্ছে। ফলে বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে সচেতন মহল ও ব্যবসায়ীরা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, বাজারে নিয়মিত নজরদারি বৃদ্ধি করে এই অবৈধ চাঁদাবাজ চক্রকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা না হলে ঐতিহ্যবাহী পদুয়া বাজারের সুনাম ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সব মিলিয়ে, অনিয়ম ও অবৈধ অর্থ আদায়ের অভিযোগ ঘিরে পদুয়া বাজারের পরিবেশ এখন উত্তেজনাপূর্ণ। সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এই ঐতিহ্যবাহী হাট তার স্বাভাবিক গতি ও আস্থা হারাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।