নিউজ ডেস্ক।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
ব্যাংকিং সুবিধা সীমিত হয়ে যাওয়া, কাঁচামাল আমদানিতে অচলাবস্থা এবং চলমান আর্থিক সংকটের মধ্যে চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে এস আলম গ্রুপের ১১টি শিল্পকারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে প্রায় ১০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তায় পড়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
গ্রুপটির কর্মকর্তাদের ভাষ্য, নতুন এলসি খুলতে না পারায় কাঁচামাল আমদানি ব্যাহত হয়। ফলে ইস্পাত, চিনি, ভোজ্যতেল, সিমেন্টসহ বিভিন্ন শিল্পে উৎপাদন ধাপে ধাপে কমে গিয়ে শেষ পর্যন্ত কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের ডিজিএম রফিকুল ইসলাম বলেন, কয়েক মাস ধরে উৎপাদন বন্ধ থাকায় শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধও সম্ভব হচ্ছিল না।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক গ্রুপটির নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব জব্দ, আর্থিক লেনদেনে বিধিনিষেধ এবং অর্থ পাচার ও ঋণ কেলেঙ্কারির অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়। এর ফলে গ্রুপটির আর্থিক প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
এদিকে, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান শিল্পকারখানা বন্ধ বা ব্যবসা সংকোচনের বিষয়টিকে গ্রুপটির ব্যবসায়িক কৌশলের অংশ হিসেবে মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, এ ঘটনা ব্যাংকনির্ভর অর্থায়ন, দুর্বল করপোরেট সুশাসন এবং অতিমাত্রায় ঋণনির্ভর ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের ঝুঁকি সামনে এনেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এস আলম গ্রুপের বর্তমান পরিস্থিতি শুধু একটি শিল্পগোষ্ঠীর সংকট নয়; এটি ব্যাংকিং খাতের নিয়ন্ত্রক দুর্বলতা, করপোরেট সুশাসনের ঘাটতি এবং আর্থিক খাতের জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।