জেলা প্রতিনিধি / কুষ্টিয়া
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ২০২৬, দুপুর ৩টা ৫৮ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে দুই ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় ১৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
গত কয়েকদিনের বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে বৃহস্পতিবার থেকে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করতে শুরু করে। এতে বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ও নিচু এলাকার স্থাপনা তলিয়ে যাওয়ায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। পানি বৃদ্ধির পাশাপাশি নদী তীরবর্তী এলাকায় তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে, যার ফলে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানি গত ২৪ ঘণ্টায় ৮ সেন্টিমিটার বেড়ে ১২.৯৮ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। গত তিন দিনে পদ্মায় মোট ৩৭ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্লাবিত এলাকায় সাপের উপদ্রব বাড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান বলেন, “উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে গত দুই-তিন দিনে ইউনিয়নের ১৯টি গ্রামের মধ্যে ১৭টির নিম্নাঞ্চলের ঘরবাড়িতে পানি উঠেছে। এতে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন এবং স্কুলগুলোতে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে।”
রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজ মণ্ডল জানান, তার ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামের চারপাশে পানি জমেছে এবং সড়ক ডুবে যাওয়ায় স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অনেক বাড়ির ভিটা পর্যন্ত পানি উঠে আসায় বাসিন্দারা চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।
দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, “ইতোমধ্যে প্লাবিত এলাকার ৩০০ পরিবারের মধ্যে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন পুরো পরিস্থিতি নজরে রেখেছে এবং প্লাবিত এলাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী সর্বাত্মক সহযোগিতা দেওয়া হবে।”
তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি বিবেচনায় প্লাবিত দুই ইউনিয়নের ১৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনির্দিষ্টকালের জন্য পাঠদান নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।